Blogger templates

ভারতের পতিতালয়ে বাংলাদেশী দুই শতাধিক কিশোরীকে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা হচ্ছে : পালিয়ে এসে দুই তরুণীর বর্ণনা

নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দুই শতাধিক তরুণী এখন ভারতের মহারাষ্ট্র প্রদেশের পুনে শহরে কয়েকটি পতিতালয়ে দেহ ব্যবসায় নিয়োজিত। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ভালো কাজ দেয়া মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে এসব তরুণীকে কৌশলে পাচার করে দেহ ব্যবসায় বাধ্য করা হচ্ছে। সেখানে তরুণীদের শারীরিক নির্যাতনসহ নানা প্রকার নির্যাতন চালানো হয়। আটমাস ওই অভিশপ্ত জায়গায় অবস্থানের পর শনিবার নানা কৌশলে দেশে ফিরে এসেছে নারায়ণগঞ্জ থেকে পাচার হওয়া দুই তরুণী। রবিবার রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় বসে ভারতে অবস্থানকালীন সেই নির্মম ও বিভীষিকাময় লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বার বার ডুকরে কেঁদে ওঠেন দুই তরুণী সোনিয়া (২৪) ও তার আপন মামাতো বোন পাখি (২০)। তাদের গত ৩ জানুয়ারী ফতুল্লা থেকে অচেতন করে ভারতে নিয়ে যায় পাচারকারী চক্র। এ দুইজন স্থানীয় র্যাব-১১ দপ্তরে গিয়ে বিষয়টি জানায়। পরে রাতে র্যাব সদস্যরা ফতুল্লা থানার চানমারী বস্তি হতে পাচারকারী দলের সদস্য রানী বেগমকে (৪০) গ্রেফতার করে।

ফতুল্লা থানার পূর্ব ইসদাইর এলাকার মোঃ হোসেনের মেয়ে সোনিয়া (২৪) ও একই এলাকার রশিদ ফকিরের মেয়ে পাখি (২০) জানায়, তারা ফতুল্লার বিভিন্ন গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানে প্রোডাকশনের কাজ করতো। তাদের সহকর্মী ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকার সাথী তাদেরকে ভালো কাজের আশা দেয়। সাথী হচ্ছে নারী পাচারকারী চক্রের স্থানীয় দালাল রানী বেগমের ঘনিষ্ঠ সহচর। ভালো কাজের আশ্বাস পেয়ে সাথীর কথামত ৩ জানুয়ারী পাখি ও সোনিয়া ফতুল্লা থানার পুলিশ লাইন এলাকায় আসে। সেদিন তাদের সিঙ্গারা পুরির সঙ্গে নেশাজাতক দ্রব্য খাইয়ে অজ্ঞান করা হয়। ৮ দিন পর জ্ঞান ফিরে সোনিয়া ও পাখি দেখতে পায় তারা সাগর বিল্ডিং নামে একটি বাড়িতে অবস্থান করছে। পরে তারা জানতে পারে ওই বাড়িটি ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনে শহরের একটি পতিতালয়। ওই পতিতালয়ের মালিক বাংলাদেশের আলাউদ্দিন, নেপালের রেনু ও বোম্বের বাবু নামে তিনজন। এ পতিতালয়ের দালাল সকলেই বাংলাদেশী বলে জানায় সোনিয়া। ওই পতিতাপল্লীর প্রধান ব্যবসায়ী চার নারী হেনা, সরস্বতী, ডিম্বল ও সাজনা সকলেই ভারতীয় নাগরিক। পতিতাপল্লীর বাড়িতে অবস্থানকালীন দেহ ব্যবসায় সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য পাখি ও সোনিয়াকে নানাভাবে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। গায়ে গরম পানি ঢেলে, ব্লেড দিয়ে জখমসহ ওই ক্ষত স্থানে লবণ দিয়ে নির্যাতন করা হত। সাগর বিল্ডিংয়ের ৬০-৬৫ জন বাংলাদেশী কিশোরীর সঙ্গে সোনিয়া ও পাখির পরিচয় হয়। এসব কিশোরীদের বেশীরভাগই নানা কাজের কথা বলে পাচার করা হয়েছিল। তাদের বেশীরভাগের বয়স ২০-২৫ এর মধ্যে। সেখানে তারা নারায়ণগঞ্জের চানমারী এলাকার রোকসানা ও মর্জিনা নামে দুই তরুণীর সন্ধান পায়। ওই দুই জনের সহায়তায় ১০ দিন পর জানুয়ারী মাসের শেষের দিকে পরিচয় হয় বুধবারপেট এলাকার প্রবীণ নামে এক যুবকের সঙ্গে। প্রবীণ পরে নানা কৌশলে সোনিয়া ও পাখিকে ওই পতিতাপল্লী থেকে উদ্ধার করে পাশের পুনে শহরের সোমাজদাপাঠা নামে একটি এলাকায় নিয়ে জাম্বুর বাড়িতে আশ্রয় দেয়। সোনিয়া ও পাখি ওই বাড়িতে ছয় মাস বসবাস করে এবং পাশের একটি রাবার ফ্যাক্টরীতে মাসিক দুই হাজার রুপি (ভারতীয় মুদ্রা) বেতনে চাকরি করে। সোনিয়া ও পাখি মিলে জাম্বুর বাড়িতে থাকাকালীন তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করে প্রবীণ। এরই মধ্যে প্রবীণ সোনিয়া ও পাখির অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে সোনিয়া ও পাখিকে কলকাতার পেট্রাপোল বন্দরে পাঠায়। শুক্রবার রাতে তারা প্রবীণের এক পরিচিত দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় বিডিআরের হাতে গ্রেপ্তার হয়। সোনিয়া ও পাখি বিডিআরের কাছে কাহিনী বলার পর শনিবার সকালে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জীবন কান্তি সরকার জানায়, পাচারকারী চক্রের বাকী সদস্যের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।